Breaking News

কোয়ানটিটি নয়, কোয়ালিটির দিকেই আমার বেশি নজর:ভাবনা

পৈতৃক বাড়ি নীলফামারি হলেও ভাবনা বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। নানাবাড়ি পুরান ঢাকাতেই কেটেছে বেশিটা সময়। মায়ের প্রথম সন্তান হিসেবে একটু বেশি আদর নিয়েই বেড়ে উঠেছেন তিনি। দুই বোনের মধ্যে তিনি বড় হলেও নিজেকে এখনো ছোট মনে করেন। ভাই না থাকায় ভাবনায় বনে গিয়েছিলেন ছেলে। ছোটবেলায় ঈদে পাঞ্জাবি পাজামা আর টুপি পরে বাবার সাথে নামাজও পড়তে যেতেন মসজিদে। সেই ছোট্ট ভাবনা এখন সেলিব্রেটি। ব্যস্ততা আর ব্যস্ততা। বেশ প্রশংসিত হচ্ছে তাঁর অভিনীত নাটকগুলো। ভাবনা বলেন, ‘কোয়ানটিটি নয়, কোয়ালিটির দিকেই আমি বেশি নজর দেই। আর কোয়ানটিটির দিকে নজর দিলে স্বাভাবিকভাবেই কাজের পরিমাণ কমে যায়। আর কোয়ানটিটির দিকে নজর দেওয়ার ফলেই আমার নাটকগুলোও বেশ প্রশংসিত হয়েছে।’

ক্যারেক্টারগুলোর জন্য নিজেকে তৈরি করে নিতে প্রচুর পরিশ্রম করেন ভাবনা। গত ঈদে একটি নাটক প্রচারিত হয়েছে, মাহমুদ দিদারের ‘রসলুন বাঈ’। এ নাটকে অনবদ্য অভিনয় করেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ভাবনা বলেন, ‘এ নাটকে বারশ সালের একজন বাঈজির চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছে। অভিনয়ের আগে নিজেকে প্রস্তুত করে নেওয়ার জন্য ঐ বিষয়ে বই আনিয়ে বই পড়েছি। কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না । পরে কলকাতা থেকে ফটোকপি করে বই আনিয়ে পড়েছি। আমি ক্যারেক্টারের জন্য প্রচুর খাটি। কেননা একটা নাটককেও আমার ফিল্মের মতো লাগে। শুধু তাই নয় আমি যদি ইন্টারভিউতেও যাই তবুও আমি সেটা নিয়ে হোমওয়ার্ক করি।’

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়া ভাবনা এমনটাই হবেন, এটাই স্বাভাবিক। আর তাই ভাবনা চেষ্টা করেন ক্যারেক্টার নিয়ে ভাবতে, ঐ ক্যারেক্টারের ভেতরে ডুবে যেতে। এজন্য খুব বেশি কাজ করতে পারেন না তিনি। এমনকি একটি নাটকের শুটিং শেষ হওয়া মাত্রই আরেকটি নাটকের শুটিংয়ে অংশ নিতেও পারেন না। ফলে কাজের পরিমাণও অন্যান্যদের চেয়ে কম হয়।

দেশের ভেতরে এবং দেশের বাইরে অনেকেই ভাবনার অভিনয় আইডল। অনেকের অভিনয়ই তাঁর মন কেড়ে নেয়। ভাবনা যেহেতু এদেশের অভিনেত্রী তাই শুধুমাত্র দেশীয় আইডলদের কথাই বলতে চান।  তিনি বলেন, আমার আইডল সুবর্ণা মুস্তফা এবং জয়া আহসান।

বিয়ে নিয়ে এখনো কিছু ভাবছেন না ভাবনা। স্বপ্ন আছে কয়েকটা সিনেমা করেই বিয়ে করবেন। কেমন ছেলে পছন্দ ভাবনার? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভালোবাসা বা পছন্দ অপছন্দের ক্ষেত্রে যেকোনো সময়ে যে কাউকেই পছন্দ হয়ে যেতে পারে। সেটা বলা মুশকিল তবে নরমালি আমার যে হাজব্যান্ড হবে তাকে অবশ্যই ক্রিয়েটিভ হতে হবে। প্রচুর বই পড়তে হবে, প্রচুর সিনেমা দেখতে হবে। যদি ক্রিয়েটিভ মেন্টালিটির হয় তবেই তার সাথে আমার ম্যাচ হবে। আর যদি কারো সাথে প্রেম হয় তাহলে তো আর বলার কিছু নেই।’

বই পড়ুয়া ভাবনা কোন ধরনের বই পড়েন  জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে যারা বইপোকা তাদেরকে কোনো ধরনের ভেতরে আনতে পারবেন না। তারা সব ধরনের বই-ই পড়ে। তারপরও যদি বলেন, তবে বলবো ম্যাজিক রিয়ালিজম নির্ভর বইগুলো আমার বেশি ভালো লাগে। রবীন্দ্রনাথ আমার ভীষণ পছন্দ। এছাড়া শহীদুল জহির, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের বই, আবুল বাশারের বইও আমার পছন্দ। খুব শীঘ্রই সেলিম আল দীনের বই পড়া শুরু করবো। তার বই কখনো পড়া হয়নি।

বাবা লেখক, পরিচালক হাবীবুর রহমান হাবীবের মেয়ে ভাবনা। বিভিন্ন সময়ে লেখালেখি করেন তিনিও। মাঝে মাঝে গল্প কবিতাও লেখেন। তবে সবই নিজের জন্য । কলেজ ম্যাগাজিনের বাইরে তার লেখা এ পর্যন্ত কোথাও ছাপা হয় নি। ছাপাননি নিজ ইচ্ছাতেই। তিনি মনে করেন, এখনো তার লেখা পরিপক্ক নয়। লেখালেখি প্রসঙ্গে ভাবনা বলেন, ‘ছোটবেলায় বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করে ফিরে এসে গল্প করার সময় বাবা বলতেন গল্প না করে যা দেখে এসেছ তা লিখে ফেলো।’ আর এভাবেই লেখালেখির শুরু ভাবনার।  কে জানে ভবিষ্যতে হয়তো একজন লেখক ভাবনাকেও খুজে পাবে শোবিজ জগত।

No comments