Breaking News

কাদের মোল্লার ফাঁসিঃ সারাদেশে সহিংসতায় নিহত ৫

কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের পর দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছে জামায়াত-শিবির। এসব ঘটনায় গত ১২ ঘণ্টায় সাতক্ষীরা, পিরোজপুর ও নোয়াখালিতে গুলি ও কুপিয়ে ৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে সাতক্ষীরায় দুই আওয়ামী লীগ নেতা, পিরোজপুরে বিএনপি ও নোয়াখালীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে এক চটপটি বিক্রেতা মারা যান। যশোরের বাঘারপাড়ায় আগুন দিতে গিয়ে ট্রাক চাপায় একজন নিহত হয়েছে।

এছাড়াও বগুড়া, রাজশাহী, লক্ষীপুর, পাবনা, দিনাজপুর, নওগাঁ, যশোর, কুষ্টিয়া, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধ ও সহিংস ঘটনা ঘটেছে।    

সাতক্ষীরা : কলারোয়া পৌরসভার গোপীনাথপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান আজুকে (৬০) ও উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জজ আলীকে (৩৮) কুপিয়ে হত্যা করেছে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহতের পরিবার সূত্র জানা যায়, একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত আজুর বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় আজু নিজেকে রক্ষা করতে বাড়ি থেকে দৌঁড়ে পালান। একপর্যায়ে তিনি পার্শ্ববর্তী একটি বাগানে পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র ‍দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এদিকে কলারোয়া উপজেলার ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আজিজুর রহমানের ছোট ভাই জজ আলীকেও দুর্বৃত্তরা হত্যা করে একই কায়দায়।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১টার দিকে তার নিজ বাড়ি থেকে ডেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে পাশ্ববর্তী ঋষিপাড়া খালের পাড়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। জজ আলী জয়নগর ইউনিয়ন নিজাম মোড়লের ছেলে।

জয়নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজ বিশ্বাসের দাবি, জামায়াত-শিবির কর্মীরা এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ দারাহ খান দুটি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাদের খুন করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর হয়েছে।

পিরোজপুর : জিয়ানগর উপজেলায় জামায়াত কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের প্রতিবাদে ১৮ দলের মিছিলে দুর্বৃত্তের গুলিতে এক বিএনপি কর্মীর নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। আহতদের স্থানীয় ভা-ারী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত বিএনপি কর্মী শুক্কুর আলীরি (৩২) বাড়ি জিয়ানগর উপজেলার প্রত্তাশী ইউনিয়নে।

মিছিলকারীদের দাবি, প্রত্তাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তোবারক আলীর বাড়ির ভেতর থেকে মিছিলে গুলি চালানো হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, এ ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে শুক্কুর আলীসহ গুলিবিদ্ধ সাতজনকে স্থানীয় ভা-ারী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শুক্কুর আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আহত বাকি ছয়জনকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আপাজিয়া বাজারে র‌্যাবের গুলিতে চটপটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম (৪০) নামের এক চটপটি বিক্রেতা নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ রিকশাচালক ইমাম উদ্দিনের (৩৫) চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে র‌্যাবের গুলিতে আলম ও ইমাম গুলিবিদ্ধ হন। শুক্রবার সকাল আটটার দিকে আলম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

কাদের মোল্লার  রিভিউ খারিজের সংবাদে আপাজিয়া বাজারে ঝটিকা মিছিল বের করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এ সময় র‌্যাব বাধা দিলে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব গুলি ছুড়লে খোরশেদ ও ইমাম গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের নোয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে বোমা হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার পর বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের শায়েস্তানগর গ্রামের বাড়িতে পেট্রলবামা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। কিন্তু এতে কেউ হতাহত হয়নি।

এদিকে বগুড়ায় সওজ ততত্ত্বাবধায়ক ও অকিজ গ্রুপের ডিপো অফিসে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। গাছের গুড়ি ফেলে যশোর-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ,  লক্ষীপুরে ২৫টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, দিনাজপুরে এমপির বাড়ি ও নির্বাচন অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগ এবং একটি সেতুর পাটাতন উপড়ে ফেলা হয়েছে।

কুমিল্লায় জেলা প্রশাসকের বাসভবনে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ, নারায়ণগঞ্জে চার গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ট্রাফিক পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে জামায়াত শিবির কর্মীরা।

No comments