ভারত
সরকারের তীব্র প্রতিবাদের মুখে দেশটির ডেপুটি কনসাল দেবযানী খোবরাগাড়ের
গ্রেফতারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ
দিকে ভারতীয় পার্লামেন্টে এ ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি
জানিয়েছেন ুব্ধ এমপিরা। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, মার্কিন আচরণ
কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ সংসদকে জানান,
যেকোনো মূল্যে দেবযানীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ আরো
বাড়াতে নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘে কর্মরত ভারতীয় স্থায়ী মিশনে দেবযানীকে বদলি
করা হয়েছে। ভারতে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকদের সুযোগসুবিধাও কাটছাঁট করা
হয়েছে। হায়দ্রাবাদে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ
ভারতীয়রা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দিল্লির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন,
বাংলাদেশ নিয়ে কূটনীতিক মতবিরোধের কারণেই এ সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। খবর এপি,
বিবিসি, এনডিটিভি, জিনিউজ ও ইন্দো-এশিয়া নিউজ এজেন্সির।
নিউ ইয়র্কে শীর্ষ ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানীর সাথে নিরাপত্তাবাহিনী যে আচরণ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তা খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ম্যারি হার্ফের বরাত দিয়ে ওই কর্মকর্তা জানান, দেবযানীকে গ্রেফতারের বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। একজন কূটনীতিক হিসেবে তার মর্যাদার দিকটি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, একজন কূটনীতিকের সাথে যে আচরণ করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ দিকে দেবযানী আটকের বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভারতের পার্লামেন্ট। বিরোধীদলীয় নেতা অরুণ জেটলি বলেন, এ ঘটনা ভিয়েনা কনভেনশনের পরিষ্কার লঙ্ঘন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তিনি এ ঘটনার বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান। আঞ্চলিক দল বিএসপি নেতা মায়াবতী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এখনই এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত। মার্কিন নাগরিকদের ভারতে যে সম্মান দেখানো হয়, তা-ও পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ সংসদকে জানিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে দেবযানীকে সসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি বলেন, ‘এটা আমার দায়িত্ব এবং যেভাবেই হোক এটা আমি করব।’ কংগ্রেস দলের মন্ত্রী আনন্দ শর্মা বলেন, গ্রেফতারের বিষয়টি জাতীয় মর্যাদার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে সংসদে ব্রিফিং দেয়া হবে।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী যশবন্ত সিং বলেছেন, ভারতে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকদের মধ্যে কয়েকজন তাদের সমকামী সঙ্গীদের নিয়ে এসেছেন। গত সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্ট সমকামী সম্পর্ককে বেআইনি ঘোষণা করেছে। মার্কিন আইন ভাঙায় যদি দেবযানীকে সে দেশে আটক করা হয়, তবে ভারতেরও উচিত মার্কিন সমকামীদের আটক করা।
এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ আরো বাড়াতে নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘে কর্মরত ভারতীয় স্থায়ী মিশনে দেবযানীকে বদলি করেছে ভারত সরকার। এতে করে পূর্ণাঙ্গ কূটনীতিক দায়মুক্তি সুবিধা পাবেন দেবযানী। অন্য দিকে, নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকদের সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তাবেষ্টনী অনেকটাই তুলে নেয়া হয়। সফররত মার্কিন প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠক বাতিল করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীলকুমার শিন্দে, কংগ্রেস সহসভাপতি রাহুল গান্ধী, লোকসভার স্পিকার মীরা কুমার, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন এবং বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি।
দেবযানীর সহকর্মীদের ইমেইলে পাঠানো একটি বার্তায় দেবযানীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আটকের সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের তার কূটনীতিক পরিচয় বারবার বলার পরও তারা বিষয়টিকে বিবেচনায় নেয়নি।
দিল্লির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের মধ্যেই কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়েকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত হয়, যার পেছনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে দুই দেশের মতপার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, সুজাতা ওই সফরে বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর বিষয়ে ভারতের অবস্থান ওয়াশিংটনের সামনে তুলে ধরেন, যার শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মতপার্থক্যের বিষয়টি। নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে ভারত সরকার যে অবস্থান নিয়েছে তাতে যুক্তরাষ্ট্র হতাশ। দেবযানীকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের একটি বার্তা দিতে চেয়েছে, যাতে আমরা ভেঙে পড়ি। তিনি জানান, এর আগে রাশিয়ার একাধিক কূটনীতিকের বিরুদ্ধে দেবযানীর চেয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও মস্কোর হুমকির কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।
নিউ ইয়র্কে শীর্ষ ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানীর সাথে নিরাপত্তাবাহিনী যে আচরণ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তা খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ম্যারি হার্ফের বরাত দিয়ে ওই কর্মকর্তা জানান, দেবযানীকে গ্রেফতারের বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। একজন কূটনীতিক হিসেবে তার মর্যাদার দিকটি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, একজন কূটনীতিকের সাথে যে আচরণ করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ দিকে দেবযানী আটকের বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভারতের পার্লামেন্ট। বিরোধীদলীয় নেতা অরুণ জেটলি বলেন, এ ঘটনা ভিয়েনা কনভেনশনের পরিষ্কার লঙ্ঘন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তিনি এ ঘটনার বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান। আঞ্চলিক দল বিএসপি নেতা মায়াবতী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এখনই এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত। মার্কিন নাগরিকদের ভারতে যে সম্মান দেখানো হয়, তা-ও পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ সংসদকে জানিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে দেবযানীকে সসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি বলেন, ‘এটা আমার দায়িত্ব এবং যেভাবেই হোক এটা আমি করব।’ কংগ্রেস দলের মন্ত্রী আনন্দ শর্মা বলেন, গ্রেফতারের বিষয়টি জাতীয় মর্যাদার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে সংসদে ব্রিফিং দেয়া হবে।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী যশবন্ত সিং বলেছেন, ভারতে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকদের মধ্যে কয়েকজন তাদের সমকামী সঙ্গীদের নিয়ে এসেছেন। গত সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্ট সমকামী সম্পর্ককে বেআইনি ঘোষণা করেছে। মার্কিন আইন ভাঙায় যদি দেবযানীকে সে দেশে আটক করা হয়, তবে ভারতেরও উচিত মার্কিন সমকামীদের আটক করা।
এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ আরো বাড়াতে নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘে কর্মরত ভারতীয় স্থায়ী মিশনে দেবযানীকে বদলি করেছে ভারত সরকার। এতে করে পূর্ণাঙ্গ কূটনীতিক দায়মুক্তি সুবিধা পাবেন দেবযানী। অন্য দিকে, নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকদের সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তাবেষ্টনী অনেকটাই তুলে নেয়া হয়। সফররত মার্কিন প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠক বাতিল করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীলকুমার শিন্দে, কংগ্রেস সহসভাপতি রাহুল গান্ধী, লোকসভার স্পিকার মীরা কুমার, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন এবং বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি।
দেবযানীর সহকর্মীদের ইমেইলে পাঠানো একটি বার্তায় দেবযানীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আটকের সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের তার কূটনীতিক পরিচয় বারবার বলার পরও তারা বিষয়টিকে বিবেচনায় নেয়নি।
দিল্লির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের মধ্যেই কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়েকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত হয়, যার পেছনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে দুই দেশের মতপার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, সুজাতা ওই সফরে বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর বিষয়ে ভারতের অবস্থান ওয়াশিংটনের সামনে তুলে ধরেন, যার শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মতপার্থক্যের বিষয়টি। নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে ভারত সরকার যে অবস্থান নিয়েছে তাতে যুক্তরাষ্ট্র হতাশ। দেবযানীকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের একটি বার্তা দিতে চেয়েছে, যাতে আমরা ভেঙে পড়ি। তিনি জানান, এর আগে রাশিয়ার একাধিক কূটনীতিকের বিরুদ্ধে দেবযানীর চেয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও মস্কোর হুমকির কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

Post a Comment
0 comments
Dear readers, after reading the Content please ask for advice and to provide constructive feedback Please Write Relevant Comment with Polite Language.Your comments inspired me to continue blogging. Your opinion much more valuable to me. Thank you.