Breaking News

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ত্রিমূখী সংঘর্ষ, ৪ শিক্ষকসহ আহত ১৫














শহীদ জিয়া ও তারেক রহমানকে কটুক্তি করায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে ত্রিমুখী  সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল সোমবার বিজয় দিবসে মুক্ত বাংলায় ফুল দেওয়া ও শহীদ জীয়াউর রহমানকে কটুক্তি করে ছাত্রলীগের শ্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে চার শিক্ষকসহ উভয় দলের ২০ জন আহত হয়েছে।

আখিরুল নামের এক ছাত্রদল কর্মীকে গুরুতর অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্রক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্বদ্যালয়ের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার সকাল ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুল হাকিম সরকার জাতীয় পতাকা ও প্রোভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা  উত্তোলন করেন।

পতাকা উত্তোলন শেষে ভিসির নের্তৃত্বে একটি বনাঢ্য বিজয় র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি মুক্তবাংলায় এসে স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদের আত্মার প্রতি পুষ্পমাল্য অর্পন করা হয়।

প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুল হাকিম সরকার, প্রোভিসি ড. শাহিনুর রহমান ও রেজিষ্ট্রার ড. মোসলেম উদ্দিন পুষ্পমাল্য অর্পন করেন।

পরে একে একে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শাপলা ফোরাম, কর্মকর্তা সমিতি, আবাসিক হল সমূহ, ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ জাসদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তবাংলায় শহীদের প্রতি পুষ্পমাল্য অর্পন করেন।

এসময় শিক্ষক সমিতির সদস্যরা, শিক্ষক সংগঠন জিয়া পরিষদ, জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ও কর্মচারি উইনিট ও ছাত্রদল মুক্তবাংলা থেকে কিছু দুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে মুক্তবাংলায় শহীদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।

পুষ্পমাল্য অর্পন শেষে শহীদের প্রতি সম্মান জানাতে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। শেষে শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মোনাজাত শেষে ছাত্রলীগ বিজয় দিবসে শহীদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ছাত্রদলকে মুক্তবাংলায় ফুল দিতে দেওয়া হবে না এবং জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানকে কটুক্তি করে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে দিতে প্রশাসন ভবনের দিকে আসতে থাকে।

জিয়াউর রহমানকে কটুক্তি শ্লোগান শুনে ছাত্রদল নেতাকর্মীরাও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়।

এসময় ছাত্রলীগের মিছিল থেকে ছাত্রদলকে লক্ষ করে ইট ছুড়তে থাকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

ফুল দেওয়ার জন্য সেখানে অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক প্রফেসর ড. ইকবাল হোসাইন আহত হয়।

শিক্ষক আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রদলও পাল্টা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে।

সংঘর্ষের ঘাটনা শুনে দলীয় টেন্টে থাকা শিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের উপর হামলা চালাতে প্রশাসনের দিকে আসতে থাকে।

সংঘর্ষের এক পর্যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে ঢুকে পড়ে।

পরে তারা পুলিশের সহযোগীতায় আবারও ছাত্রদলের ওপর হামলা চালালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কিছুটা পিছুহটে।

পরে শিবিরের উপস্থিতিতে ছাত্রদলের সভাপতি ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদরে নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রামদা, চাপাতি,চাকু কুড়াল ও লাঠিসোঁটাসহ আবারও ছাত্রলীগের ওপর হামলা চালায়।

এসময় কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী প্রশাসন ভবনে আটকা পড়ে এবং অধিকাংশ নেতাকর্মী ক্যম্পাসের মেইন গেটদিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে।

এতে ছাত্রলীগের সাইফুল ইসলাম, হালিম, রানু ও ছাত্রদলের আখিরুল ইসলাম, আনিচুল ইসলাম মাহমুদ, আবুল খায়ের, সোহাগসহ উভায় দলের প্রায় ১০ জন আহত হয়।

আহতদের কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ও কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ছাত্রদল কর্মী আখিরুল ইসলামকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আছাদুল ইসলাম নামে এক কর্মচারীকে ছুরাকাঘাত করে ছাত্রদলের ক্যাডাররা। এদিকে ছাত্রলীগের ছোড়া ইটের আঘাতে বিশ্ববিদ্যালয়েল চার শিক্ষক আহত হয়েছেন।

আহত শিক্ষকরা হলেন প্রফেসর ড. ইকবাল হোছাইন, প্রফেসর ড. আব্দুল মালেক,ড. আক্তারুজ্জামান ও ড. আবুল কালাম আজাদ।

এদিকে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষকে নিয়োন্ত্রনে আনতে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিমন রায়ের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শামীম খান বলেন, ‘মুক্তবাংলায় ফুল দেওয়া শেষে আমরা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান করছিলাম।

এসময় ছাত্রদল ক্যাডাররা অতর্কিতভাবে আমাদের উপর হামলা চালায়।’

ছাত্রদল সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গেলে ছাত্রলীগ জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানকে কটুক্তি করে এবং আমাদের দিকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।

ফলে আমাদের নেতা কর্মীরা এর প্রতিরোধ করেছে মাত্র।

এবিষয় ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামন,“ সংঘর্ষের সময় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিাতি মোকবেলা করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের তাৎক্ষনিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

No comments